এম.মনছুর আলম, চকরিয়া :
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুযোগ বাড়াতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর  নির্দেশনায় তার নির্বাচনী এলাকার মাতামুহুরী উপজেলায় ‘ফার্মাস মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কোল স্টোরেজ উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো: আবদুল মান্নান।
উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজার উপপরিচালক ড.বিমল কুমার প্রামাণিক, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফেরদৌসী জাহান, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আরিফুর রহমানসহ সরকারি দপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
জানাগেছে, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এসব ইউনিয়নে অধিকাংশ  কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের অনেক সময় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে হয়। বিশেষ করে পচনশীল কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোল্ড স্টোরেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে প্রধানত দুই মৌসুমে ফসল উৎপাদিত হয়। রবি মৌসুম (শীতকাল)

এবং খরিপ মৌসুম (গ্রীষ্ম ও বর্ষাকাল)। মিনি কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পচনশীল শাকসবজি ও ফলমূল কম খরচে সংরক্ষণ করে সতেজ রাখতে পারেন। এটি সফলভাবে করা গেলে এলাকার কৃষিজাত পণ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে।
শুধুমাত্র হিমাগার বা কোল স্টোরেজ না থাকার কারণে প্রতি বছর এলাকার উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূলের প্রায় ৪০ থেকে ৪৪ শতাংশ নষ্ট বা পচে যায়। মাতামুহুরী উপজেলায় হিমাগারে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় আলু, টমেটোসহ  মৌসুমি শাকসবজি ও তরি তরকারি ক্ষেতে নষ্ট হয়ে যায়। ফসলের দাম পড়ে যাওয়ায় অনেক সময় কৃষক উৎপাদিত ফসল বাজারে আনতে অনুৎসাহিত বোধ করে। কৃষকের উৎপাদিত পন্য পচে যাওয়ার ভয়ে অনেক সময় চাষিরা পানির দরে বিভিন্ন শাকসবজি ও তরকারি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন অথবা বিক্রি করতে না পেরে তা ফেলে দেন। কৃষিজাত পণ্য উৎপাদন করে তা সময়মত সংরক্ষণ ও সঠিক বিপণন করা গেলে দেশে কৃষিজাত কোন পণ্য অন্য জেলা থেকে আমদানি করতে হবে না। আর এক্ষেত্রে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের জন্য আশার আলো হিসাবে স্থাপন করা হচ্ছে ‘মিনি কোল্ড স্টোরেজ’। যদি এটি স্থাপন করা যায় তবে সবচেয়ে লাভবান হবে প্রান্তিক কৃষকরা।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, ফার্মার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ চালুর ফলে স্থানীয় কৃষকরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য কিছু সময় সংরক্ষণ করে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। এতে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ ও বাজারজাত ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে মাতামুহুরী উপজেলায় সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তিনি।